বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৮ মার্চ ২০১৮

মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)

ড. মোঃ মফিজুর রহমান, (অতিরিক্ত সচিব) বিগত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ বিটাকের মহাপরিচালক পদে যোগদান করেন। তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬১ সালের ০১লা সেপ্টেম্বর তারিখ জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং মা গৃহিনী। মেঘনা নদীতে বাড়িঘর বিলীন হওয়ায় ১৯৮৪ সন থেকে তাঁর পরিবার শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বিকম (সম্মান) ও এমকম পাশ করেন। কর্মজীবনে প্রবেশের পর তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে এলএলবি, নেদারল্যান্ডস এর Maastricht বিশ্ববিদ্যালয়ের Maastricht School of Management থেকে Management Control and Management Information System (MCMIS)  বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রী  এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আইবিএস থেকে পরিবেশ দূষণের উপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

ড. রহমান ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, সুনামগঞ্জ ও ঝালকাঠি জেলাতে সহকারী কমিশনার, সহ: কমি(ভূমি), এলএও, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা পরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে তিনি নৌ পরিবহন, পরিবেশ ও বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব ও উপসচিব এবং বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হয়েও ড. রহমান দু‘বার বিদেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় হতে হজ্জ কাউন্সেলর হিসেবে সৌদি আরবে এবং বিটাকে যোগদানের অব্যবহিত পূর্ব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ দূতাবাস রোম, ইতালীতে আগস্ট ২০১২ হতে ১২ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত ইকনমিক কাউন্সেলর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রোমে অবস্থিত জাতিসংঘের তিনটি প্রতিষ্ঠান খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেপলপমেন্ট (ইফাদ) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ‘র বিকল্প স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ড. রহমানই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি সর্বপ্রথম ২০১৫ সালে জি৭৭ রোম চাপ্টারের ভাইচ চেয়ার এবং ২০১৬ সালে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কমিটি অন ওয়ার্ল্ড ফুড সিকিউরিটি (সিএফএস) এর ব্যূরো মেম্বার হিসেবে দু‘টো উপ-কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়ও তিনি এফএও‘র প্রোগ্রাম কমিটি, ফাইনান্স কমিটি ও লিগ্যাল কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের Second International Conference on Nutrition (ICN2) এর রোম ডিক্লারেশনে তাঁরই দেয়া প্রস্তাবনা গৃহীত হওয়ায় জাতিসংঘ ২০১৬ থেকে ২০২৫ সময়কালকে পুষ্টি দশক (International Decade for Nutrition) ঘোষণা করেছে। তাঁর প্রচেষ্টাতে বাংলাদেশ ২০১৬-২০১৮ মেয়াদে বিশব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি এফএও, ইফাদ এবং ডব্লিউ এফপি‘র প্রায় সকল কমিটি, উপকমিটিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে চেয়ারপার্সন/প্যানেলিষ্ট/মডারেটরের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তী যথেষ্ট উজ্জ্বল করেছেন।

সৌদি আরব এবং ইতালীতে চাকরির সুবাদে অবস্থান করা ছাড়াও প্রশিক্ষণ ও সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ইউএসএ, ইউকে, নরওয়ে, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যন্ডস, গ্রীস, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, থাইল্যন্ড, মরোক্ক, লাওস, ইকুয়েডর, নেপাল, ফিজি, সলোমন আইল্যন্ড, সামোয়া, সাউথ কোরিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যন্ডস, অষ্ট্রিয়া, জার্মানি, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, আলবেনিয়া, সার্বিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, মালি, সিয়েরা লিওন, গিনি এবং লাইবেরিয়া ভ্রমণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের (বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় অধ্যয়নরত) জনক এবং স্ত্রী বাংলাদেশ বেতারে নিজস্ব শিল্পী হিসেবে কর্মরত আছেন।


Share with :
Facebook Facebook